“টোল না দিলে পথ চলা নিষেধ!”
বৃন্দাবনের সরল পথে
শ্রীমতী রাধারাণী ও সখীগণ
দই, মাখন ও ক্ষীরের কলসী মাথায় নিয়ে
অত্যন্ত সৌন্দর্যে অগ্রসর হচ্ছিলেন।
হঠাৎ—
পথের মাঝে দাঁড়িয়ে গেল কিছু গোপবালক!
লাঠি আড়াআড়ি করে পথ আটকে দিল তারা।
⸻
সুবল (হাসতে হাসতে):
“থামো! থামো!
এ পথ এখন গোকুল টোল বিভাগের অধীনে!”
মধুমঙ্গল (মাখনের গন্ধ পেয়ে):
“আজকের কর শুধু মাখনে দিতে হবে!
কোনো ছাড় নেই, কোনো অজুহাত নয়!”
⸻
ললিতা সখী:
“ওহ! কবে থেকে মাখন চোররা
সরকারি কর্মচারী হয়ে গেল?”
বিশাখা সখী:
“সাবধান ললিতা!
এরা তো প্রমাণ জমা দেওয়ার আগেই
সব খেয়ে ফেলে!”
⸻
তখন শ্রীকৃষ্ণ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন,
মুখে কোমল হাসি, চোখে চপল কৌতুক।
শ্রীকৃষ্ণ:
“রাধে… নিয়ম তো নিয়মই।
এক কলস দই, আর এক মুঠো মাখন—
এইটুকুই দান দিলেই পথ ছেড়ে দেব।”
⸻
রাধারাণী (ভ্রু কুঞ্চিত করে):
“শ্যাম!
ঘরে ঘরে মাখন চুরি করো,
এখন আবার রাস্তায় টোল নিচ্ছো?!
বাহ! বেশ ব্যবসা শুরু হয়েছে দেখছি!”
মধুমঙ্গল:
“রাধে, চুরি হলো শিল্প…
আর টোল হলো ব্যবসা!”
রাধারাণী:
“ব্যবসা করতে হলে দোকান খোলো!
সভ্য গোপীদের পথ রোধ করে দাঁড়ানো—
এ কেমন আচরণ?”
⸻
সুবল (আস্তে কৃষ্ণকে):
“দেখো ভাই… আজ রাধারাণী বেশ রাগে আছেন!
পালাবো নাকি?”
শ্রীকৃষ্ণ (মৃদু হেসে):
“না… থাকো।
এই রাগই তো আমার পরম আনন্দ।”
⸻
ললিতা:
“শ্যাম, পথ ছাড়ো।
নাহলে রাধার ভ্রূ-ই যথেষ্ট—
লাঠির প্রয়োজন হবে না!”
বিশাখা:
“হ্যাঁ! আজ তো গোবর্ধনও ভয় পাচ্ছে!”
⸻
রাধারাণী (কলসী দৃঢ়ভাবে ধরে):
“শুনে রাখো নন্দনন্দন!
এক ফোঁটা দই যদি পড়ে যায়—
আমি মা যশোদার কাছে নালিশ করব!
তখন তোমার বংশী যাবে দীর্ঘ ছুটিতে!”
⸻
শ্রীকৃষ্ণ (হালকা আত্মসমর্পণে):
“আচ্ছা আচ্ছা…
তোমরা যেতে পারো।
কিন্তু দান হিসেবে
একটি চাহনি দেবে না, রাধে?”
⸻
রাধারাণী ধীরে ফিরে তাকালেন…
এক তীক্ষ্ণ, বিজয়ী দৃষ্টি দিলেন।
রাধারাণী:
“এই দৃষ্টি মাখনের চেয়েও মূল্যবান।
ভাববে না যে তুমি জিতেছ, শ্যাম!”
(রাধা ও সখীগণ হাসতে হাসতে পথ অতিক্রম করলেন)
⸻
ললিতা:
“চলো বিশাখা!
আজ টোল আদায়কারীই জরিমানা দিল!”
বিশাখা:
“হ্যাঁ, আর সেই জরিমানা—
প্রেমে!”
মধুমঙ্গল:
“কৃষ্ণ! আমরা মাখন চাইতে এসেছিলাম…
আর তুমি আবার হৃদয় হারালে!”
শ্রীকৃষ্ণ (রাধার প্রস্থান দেখিতে দেখিতে):
“এই করই আমি আনন্দে দিই—
প্রতিদিন…
রাধার প্রেমের কাছে।”
⸻
এই দানঘাটি লীলা আমাদের শিক্ষা দেয়—
ভগবান ও ভক্তের সম্পর্ক
কখনো শুষ্ক নিয়মে বাঁধা নয়,
এটি মাধুর্য, হাস্য ও প্রেমের চিরন্তন খেলা।
গোবর্ধন দানঘাটে আজও ভক্তরা
এই লীলার স্মরণে
অপরূপ প্রেমরস অনুভব করেন।
⸻
আপনার হৃদয়ে কি এই মাধুর্যময় দানঘাটি লীলার অনুভূতি জেগেছে?
কমেন্টে লিখুন — “রাধে রাধে”


Pingback: যেখানে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধার অঙ্গকান্তি দর্শনে প্রেমে তন্ময় হয়েছিলেন - Daily Dham Darshan